Dhaka ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৪ আশ্বিন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
Breaking News :
Logo ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন: আটক-১ Logo ফরিদপুরে আদম ব্যবসায়ীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন। Logo খুলনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান হাদির জানাযায় আজিজুল বারী হেলাল। Logo মানিকগঞ্জে চরে বিএনপি’র ঐক্য ও শান্তি সমাবেশ Logo বিষ খাইয়ে প্রতিবন্ধী শিশু সন্তানকে মা-বাবা হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার Logo চল্লিশ বছর পর বাংলাদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরলো নিপালী নাগরিক Logo চাঁদপুরের কচুয়ায় আগুনে পুড়ল ২০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান Logo কেরুজ চিনিকলে চাকরি স্থায়ীকরণে অনিয়মের অভিযোগ : কেরুর এমডি’কে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ সদর দপ্তরের: অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা Logo পাবনার ভাঁড়ারার চেয়ারম্যান সুলতান গ্রেফতার Logo চাটমোহরে উদ্যোক্তাদের তৈরিকৃত স্বাস্থ্যসম্মত সরিষার তেল বিক্রয় প্রসারে বাজার সংযোগ সভা

ইন্টার্নদের ধর্মঘটের কারনে রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

ওবায়দুল ইসলাম রবি,
  • Update Time : ০৭:৫১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৪১৩ Time View

রাজশাহী থেকে ওবায়দুল ইসলাম রবি :: ইন্টার্নদের ধর্মঘটের কারনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টর এ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চলছে। এতে চার দিন ধরে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এমবিবিএস শেষ করে রামেক হাসপাতালে ২১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করছেন। এ ছাড়া আগেই এমবিবিএস শেষ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ না করা আরও প্রায় ৬০ চিকিৎসক এফসিপিএস ও এমডিএমএস কোর্স করছেন। তাঁরা সবাই গত রোববার থেকে কর্মবিরতিতে আছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা না থাকলেও অন্য চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন। কিন্ত বাস্তবে তার বিপরীদ প্রমান বহন করছে। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত মাহমুদুল ইসলাম নামের এক রোগী মারা গেছে। উন্নত চিকিৎসা নিতে পাবনা থেকে তিনি এ হাসপাতালে এসে ১৭ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ভিতরে জায়গা না পেয়ে তাকে রাখা হয়েছিল বারান্দার মেঝেতে। মৃত ব্যাক্তির মা নুরুন্নাহার গনমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাত ১০.৩০টার দিকে তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই সময় চিকিৎসক ছিলেন না। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় চিকিৎসক আসার কিছুক্ষণ পরেই তার ছেলে মারা যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন চিকিৎসক তার সন্তানের চিকিৎসা করেননি বলে অীবযোগ করেছেন মৃত ব্যাক্তির মা। একইভাবে মোহনপুর উপজেলার রহিমাপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্রবধূ রোকসানা বেগম জানান, তার শ্বশুর স্ট্রোক করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টার দিকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলেও বুধবার বেলা ১১.৩০টা পর্যন্ত অসুস্থ রোগী কোন চিকিৎসকা পাইনি। তাদের পাশেই দুজন রোগী মারা গেছে শুধু সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভাবে। অপর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রোগির স্বজন লিপি রানী বলেন, তার রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে হবে। কিন্ত রামেকের বাজে অবস্থার কারনে তাদের পাশ থেকে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে শুধু ডাক্তারের অভাবে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন,চিকিৎসক না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঠিক নয়। রামেক মিড লেভেলের ডাক্তাররা রাত ও দিন পরিশ্রম করছেন। এই হাসপাতাল অনেব বড়, রোগীর কাছে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সময় দিতে হবে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪৯৮ জন। এইদিন নতুন ভর্তি হয় ৭৯০ রোগী। যার মধ্যে মারা যায় ৩৪ জন। এই হাসপাতালে রোগীর সুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু স্বাভাবিক যার গড় ২ শতাংশের কম।

Tag :

অগ্রযাত্রা স্যাটেলাইট টেলিভিশন (এটিভি বাংলা) লিমিটেড এর একটি প্রতিষ্ঠান।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২ নং শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ স্বরণী, রমনা, ঢাকা-১২১৭।
মোবাইল: ০১৬৪৬৪৪৪৫৩০

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইন্টার্নদের ধর্মঘটের কারনে রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুও সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

Update Time : ০৭:৫১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

রাজশাহী থেকে ওবায়দুল ইসলাম রবি :: ইন্টার্নদের ধর্মঘটের কারনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভাতা বৃদ্ধি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ চার দফা দাবিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টর এ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা কর্মবিরতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চলছে। এতে চার দিন ধরে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

এমবিবিএস শেষ করে রামেক হাসপাতালে ২১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করছেন। এ ছাড়া আগেই এমবিবিএস শেষ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ না করা আরও প্রায় ৬০ চিকিৎসক এফসিপিএস ও এমডিএমএস কোর্স করছেন। তাঁরা সবাই গত রোববার থেকে কর্মবিরতিতে আছেন। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা না থাকলেও অন্য চিকিৎসকেরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছেন। কিন্ত বাস্তবে তার বিপরীদ প্রমান বহন করছে। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় ডায়রিয়া আক্রান্ত মাহমুদুল ইসলাম নামের এক রোগী মারা গেছে। উন্নত চিকিৎসা নিতে পাবনা থেকে তিনি এ হাসপাতালে এসে ১৭ নং ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ভিতরে জায়গা না পেয়ে তাকে রাখা হয়েছিল বারান্দার মেঝেতে। মৃত ব্যাক্তির মা নুরুন্নাহার গনমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাত ১০.৩০টার দিকে তার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। ওই সময় চিকিৎসক ছিলেন না। বুধবার সকাল ১০.৩০টার সময় চিকিৎসক আসার কিছুক্ষণ পরেই তার ছেলে মারা যায়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ১২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন চিকিৎসক তার সন্তানের চিকিৎসা করেননি বলে অীবযোগ করেছেন মৃত ব্যাক্তির মা। একইভাবে মোহনপুর উপজেলার রহিমাপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের পুত্রবধূ রোকসানা বেগম জানান, তার শ্বশুর স্ট্রোক করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১১.৩০টার দিকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলেও বুধবার বেলা ১১.৩০টা পর্যন্ত অসুস্থ রোগী কোন চিকিৎসকা পাইনি। তাদের পাশেই দুজন রোগী মারা গেছে শুধু সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার অভাবে। অপর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রোগির স্বজন লিপি রানী বলেন, তার রোগীকে ডায়ালাইসিস করাতে হবে। কিন্ত রামেকের বাজে অবস্থার কারনে তাদের পাশ থেকে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে শুধু ডাক্তারের অভাবে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন,চিকিৎসক না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঠিক নয়। রামেক মিড লেভেলের ডাক্তাররা রাত ও দিন পরিশ্রম করছেন। এই হাসপাতাল অনেব বড়, রোগীর কাছে গিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সময় দিতে হবে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৪৯৮ জন। এইদিন নতুন ভর্তি হয় ৭৯০ রোগী। যার মধ্যে মারা যায় ৩৪ জন। এই হাসপাতালে রোগীর সুস্থতার হার ৯৮ শতাংশ। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনের মৃত্যু স্বাভাবিক যার গড় ২ শতাংশের কম।